Thursday, April 16, 2026

 Book Review-17

বইয়ের নামঃ লিখিত বাংলাদেশ বিষয়াবলি 

রচনা ও সম্পাদনায় : Nest Publications

রেটিং- ১০ এ ৮.৫

বইটা কয়েকদিন পড়েই রিভিউ করছি।

একটা মজার কথা: এর সুনাম ও বদনামি মিলে লেখাটা হবে। লেখক বইটা উপহার পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমি রিভিউ করার সময় সেটা বাস্তব সম্মত আলোচনাই করি এবং করবো। এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বইয়ের রিভিউ করছি। 


ভালো দিক😻

----------------------

১) ভাষা একদম পানির মতো সহজ। আমার রিভিউ ৪ অধ্যায় টোটাল পড়া+৫ম নং চলমান+ বাকি অধ্যায়গুলো একনজর ভালো করে দেখে তারপর বলা।কারণ আগে রিটেন দেওয়ায় কনটেন্ট বুঝতে এইটুক এনাফ মনে করছি।

 একটা প্রশ্নও বুঝতে সমস্যা হয়নি। মানে সহজ কথা বললে এটার ভাষা না বুঝার মতো কিছুই নাই।


২)অধ্যায় ভিত্তিক Analysis এর সিস্টেমটা অন্যান্য বইতে যেমন আছে তেমনই । তারপর অধ্যায়ের শুরুতে ১০-৪৭তম রিটেন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন+তারপর কিভাবে কোনটপিক আসতো+এবার পড়বেন ছোট করে দিকনির্দেশনা দেওয়া।

আমি যেমন BCS Master Plan এর সিলেবাস করার সময় চিন্তা করি। 


৩)এই বইটার একটা জিনিস আমার চরম ভালো লেগেছে সেটা আর কোন বইতে নাই সেটা হলো অধ্যায় সম্পর্কিত ডাটা,উক্তি,সংবিধানের অনুচ্ছেদ +SDG কোন ধারা এই অধ্যায়ে লাগবে তা মেনশন করা+ আন্তর্জাতিক কোন সনদ বা আইনের ব্যবহার করা গেলে তার মেনশন।


তারপর ডেমো উত্তর করে দেখানো হয়েছে এই ডাটা,উক্ত, সংবিধানের অনুচ্ছেদ কিভাবে কোথায় ব্যবহার করবেন মানে প্রায়োগিক উত্তর।

শুধু ৩ নং পয়েন্ট দিয়ে সব বই থেকে আলাদা হয়েছে। কারণ আগে এইগুলো,নোট করা লাগতো এখন নোট লাগবে না। বইতে গুছানো আছে অধ্যায়ের শুরুতে


৪) প্রশ্ন ভিত্তিক আলোচনা না করে টপিক ভিত্তিক করেছে। যাতে যেকোন ধরনর প্রশ্ন আসলে উত্তর করা যায়।  কারণ টপিক সম্পর্কে ধারণা থাকলে লিখতে পারবেন। যেমন অন্য বইতে প্রশ্ন আকারে সাজানো থাকে, তারা টপিক করে আলোচনা করেছে।

সাজানো এমন

*টপিক ভিত্তিক আলোচনা

*পরিচ্ছেদ শেষে এই টপিক কিভাবে প্রশ্ন আকাারে আসতে পারে সেই প্রশ্ন আলাদা তুলছে।

*আর টোটাল অধ্যায় শেষে কিছু Advance প্রশ্ন এড করেছে আনকমন টাইপ, অনুশীলনের জন্য যাতে করে এমন প্রশ্ন আসলে আপনি কীভাবে ডিল করেন তার একটা আইডিয়া নিতে পারেন।


৫)আলোচনাং বোর্ড বই+উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধান্য দিয়েছেন ওনারা বলেছেন সেজন্য ভাষা সহজ হয়েছে তবে বিসিএসে প্রাসঙ্গিক কিছু ডাটা গ্রাফ আসা উচিত ছিল আলোচনায়, এখানে ঘাটতি ছিল। তবে ভাষা যেহেতু বোর্ড বই কেন্দ্রিক সহজ বুঝার মতো।  ডাটা শাক দিয়ে ভরা না।

অনেক ডাটা থাকলে অনেক সময় হতাশা কাজ করে।সেটা থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন। 

 তাই কনফিডেন্স ধরে রাখতে পারবেন। বেশি ডাটা দেখলে ভয় পায় অনেকে


৬)১৩০ মার্কস পাওয়ার মতো ওনারা দাবি করেছেন। আমরাও আশাবাদী তবে কিছু জিনিস সাথে এড করতে হবে এই মার্কস পেতে হলে। সেটা সমালোচনা পার্টে।


৭)ওনারা প্রচুর পরিশ্রম করেছে এবারের এডিশনে, আগের এডিশন থেকে আকাশ পাতাল পার্থক্য। বলতেই হবে কষ্ট করছে। সেটার দাম পাওয়া উচিত


৮)টপিক সাজাতে গিয়ে ইউনিক কিছু টপিক বের করছে+আলোচনা করছে যেটা ৪৫+৪৬+৪৭তম বিসিএসের পরিবর্তিত প্যাটার্নের সাথে মিলে কমন আসার মতো। আর ৪র্থ অধ্যায় অসম্ভব পরিশ্রম করে সাজিয়েছেন যা খুব কম বইতেই পাবেন।


৯)বাইন্ডিং+কাভার মিডিয়াম মানের।  আরেকটু ভালো করা যায় করে নিবেন।  যদিও তাদের পেইজের থিম মেবি প্রাকৃতিক টোনিতে সবুজ রাখে এই চিন্তায় হলে ভালো চিন্তা।


সমালোচনা করা যাবে কড়া করে😥

-----------------------


১) বিসিএসের বিগত প্রশ্নের সমাধন মিসিং আছে কিছু। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে বা আসলে রিলেটেবল এমন কিছু প্রশ্ন মিসিং মনে হলো।

২)আপনার যে টপিক বিগত বিসিএসে আসছে তারপাশে বিসিএস-৩৬+৪১ এস ভাবে মেনশন না করা দেখে চরম হতাশ হয়েছি। আমরা পুরাতনরা এটা বুঝলেও নতুনরা অধ্যায়ের শুরুতে এসে প্রশ্ন দেখে তারপর পাশে বিসিএস -... এটা খোঁজে লেখার মতো সময় নাই। এটা অবশ্যই মেনশন করবেন। না হয় গুরুত্ব সাথে সাথে বুঝতে প্রবলেস।


২)সূচিপত্র টুকটাক স্টার মার্ক করা থাকলেও সেটা টপিকের পাশে নাই। যে পড়বে সে টপিকের পাশে স্টার দেখবে সূচিপত্র না। এটা মাথায় রাখা উচিত


৩) কিছু প্রশ্নে পয়েন্ট কম বাট ৯৫% ই পয়েন্ট ভালো আছে। আরেকটু কাজ করা লাগবে।


৪)দাম হিসেবে কাগজের কোয়ালিটি আরেকটু বেটার ডিজার্ভ করে, যদিও কাগজ একদম খারাপ না বাট এটা তো ৫১তমতেও কাজে লাগবে সেই হিসেবে


৫)অধ্যায় শেষে অনুশীলন জন্য যে প্রশ্ন দিয়েছেন সেটার কিছু Key Point আলোচনা করা দরকার ছিল। কারণ এখন এতো কম সময় এমন স্মার্ট প্রশ্নের কিছু আইডিয়া নিজে ভাবা বা  উত্তর রেডি করার সময় নাই। যদি পসিবল হয় PDF আকারে জাস্ট key Point এর সাপ্লিমেন্ট আকারে PDF দিয়েন। প্রশ্নগুলো আসলে আসার মতো।


৬)Graphical Presentation এর দুর্বলতা প্রকাশিত। বিশেষ করে যেখানে প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশের স্মার্ট ম্যাপ বা কিছু চিত্র থাকার কথা তুলনামুলক কম+ যেগুলো,আছে কিছু চিত্র কোন তাদের না। এটা পরেরবার খেয়াল রাখতে হবে


৭)প্রশ্নের টপিকের সংজ্ঞায় স্মার্ট কিছু প্রণেতার সংজ্ঞা এটলিস্ট বাংলায় ২/৩ টা ইংরেজিতে ২  দেওয়া উচিত। এখানে মনোযোগের ঘাটতি দেখলাম। আরেকটু তথ্য এড হওয়া উচিত 


৮)৩ নং অধ্যায় একদম কম আলোচনা। এটা বেসিক বই দাবি করা হলেও এই অধ্যায়টা কম আলোচনা হলো।

পাশাপাশি ৭+৮ নং অধ্যায় আরো বিগত বিসিএসের রিপিট প্রশ্ন+ প্রাসঙ্গিক আসার মতো,প্রশ্ন এড করার সুযোগ আছে।

৯)পরিবেশ অধ্যায় বাংলাদেশের ম্যাপ দিয়ে কিছু প্রেজেন্টশনের ঘাটতি লক্ষনীয়


আমাদের চাহিদা

------------------------

১)আমি যা সমালোচনা করেছি এটা খারাপ দিক না। এইগুলো করলে এই বইকে টপকে যাওয়া অসম্ভব হবে। তাই সমালোচনা পার্টটা নিয়ে মনোকষ্ট নিবেন না। আমি যা বলছি এটা আপনাদের কাজের উন্নয়নের

২)টপিক ভিত্তিক আলোচনা করলেও সম্ভাব্য প্রশ্ন শেষে না দিয়ে যে টপিকের প্রশ্ন এটা কিভাবে আসতে পারেে টপিকের সাথে বক্সে দিবেন।স্মার্ট+প্রশ্নের উত্তর বুঝতে সু্বিধা হবে


যাই হোক ভালো মন্দ মিলিয়ে বইটা রেটিং ১০ এ ৮.৫


Wednesday, March 18, 2026

Sexuality Is Ugly, Not Sex – ওশোর বৈপ্লবিক চিন্তা | বই রিভিউ

ভূমিকা


“সেক্স” শব্দটি উচ্চারণ করলেই অনেকের মনে অপ্রস্তুতি বা সংকোচ কাজ করে। সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতি মিলিয়ে এই শব্দটিকে একধরনের নিষিদ্ধ ফলে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য কী? ওশো তার Sexuality Is Ugly, Not Sex বইয়ে এই ট্যাবু ভেঙে ফেলার সাহসী প্রচেষ্টা করেছেন।


 বইটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ:


ওশো এখানে যৌনতা এবং তার বিকৃত রূপের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যৌনতা স্বাভাবিক একটি মানবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু সমাজের নানা কাঠামো ও ভয় এটিকে বিকৃত করে তোলে। এই বই পাঠককে নিজের ভেতরে তাকাতে এবং সমাজের আরোপিত চিন্তাধারা প্রশ্ন করার সাহস দেয়।


🔍 মূল আলোচনা ও দর্শন


🌿 প্রাকৃতিক যৌনতা বনাম বিকৃত যৌনতা


ওশো মনে করেন, যৌনতা প্রকৃতিগতভাবে কুৎসিত নয়। এটি কুৎসিত হয়ে ওঠে যখন আমরা এটিকে দমন করি, না বুঝে বিচার করি এবং লজ্জার আড়ালে লুকাই।


🧠 মানসিক দমন ও তার প্রভাব


যৌনতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। দীর্ঘদিন দমনের ফলে এটি আচরণে বিকৃতি সৃষ্টি করে। ওশো এই সত্যকে নির্ভয়ে ব্যাখ্যা করেছেন।


💡 সচেতনতাই সমাধান


বইটির মূল উপদেশ—সচেতন হওয়া। নিজের যৌনতা সম্পর্কে জানা, বোঝা এবং গ্রহণ করাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। দমন নয়, বরং বোধই মুক্তি দেয়।


✍️ রিভিউ: ব্যক্তিগত মতামত


✅ ইতিবাচক দিক


· সাহসী ও খোলামেলা লেখনী

· সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে সহায়ক

· মননশীল ও দার্শনিক বিশ্লেষণ


⚠️ নেতিবাচক দিক


· কিছু অংশ অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগতে পারে

· ধর্মীয় বা রক্ষণশীল মানসিকতার পাঠকের জন্য গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে


👥 কাদের জন্য এই বই প্রয়োজনীয়?


· যারা মানব মনস্তত্ত্ব বুঝতে চান

· যারা সমাজের চোখে না দেখে নিজের চোখে দেখতে চান

· যারা আধ্যাত্মিকতার নতুন দিক উন্মোচনে আগ্রহী


🏁 উপসংহার


Sexuality Is Ugly, Not Sex শুধু একটি বই নয়, এটি একটি চিন্তার বিপ্লব। ওশো আমাদের শেখান—প্রকৃতি কখনো কুৎসিত নয়, কুৎসিত শুধু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। বইটি পাঠকের মানসিক জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে সক্ষম।


📚 রেটিং: ⭐⭐⭐⭐ (৪/৫)

Thursday, April 25, 2019

প্রফেসর শঙ্কু সর্ম্পকে বিস্তারিত। সত্যজিত রায়ের অমর সৃষ্টি প্রফেসর শঙ্কু। সত্যজিত রায়

সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র “প্রফেসর শঙ্কু!” চলুন জেনে নিই প্রিয় গোয়েন্দাকে নিয়ে সমস্ত তথ্য! 🔍

প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু প্রফেসর শঙ্কু নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি একজন বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক। তাঁর বিশেষত্ব হল, মূলত পদার্থবিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তাঁর অবাধ গতি; তিনি ৬৯টি ভাষা জানেন, হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর লিপি উনিই প্রথম পড়তে পারেন; এবং বিশ্বের সকল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারণা রয়েছে।

সত্যজিৎ রায় প্রফেসর শঙ্কু সিরিজে মোট ৩৮টি সম্পূর্ণ ও ২টি অসম্পূর্ণ গল্প লিখেছেন। এই সিরিজের প্রথম গল্প ব্যোমযাত্রীর ডায়রি ১৯৬১ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই গল্পটি হালকা চালে লেখা এবং এটি লেখার সময় লেখক প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্রটি নিয়ে সিরিজ করার কথা ভাবেননি।
১৯৬৪ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত দ্বিতীয় শঙ্কু-কাহিনি প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় থেকে যথাযথভাবে শঙ্কু সিরিজের সূচনা হয়। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত প্রফেসর শঙ্কু শঙ্কু সিরিজের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে শঙ্কু সিরিজের মোট আটটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে শঙ্কুসমগ্র গ্রন্থে এই সিরিজের সকল গল্প সংকলিত হয়।

শঙ্কু সিরিজের গল্পগুলি প্রোফেসর শঙ্কুর জবানিতে দিনলিপির আকারে লিখিত। গল্পগুলির পটভূমি ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। প্রফেসর শঙ্কুর নিবাস তদনীন্তন বিহারের (অধুনা ঝাড়খণ্ড) গিরিডি শহরে। বাড়িতে তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী নিউটন নামে ২৪ বছরের একটি পোষা বিড়াল ও তাঁর চাকর প্রহ্লাদ। বিশ্বের নানান দেশের বিজ্ঞানীরা তাঁর বন্ধু, তাদের মধ্যে বহুবার উল্লিখিত হয়েছে ক্রোল ও সন্ডার্সের নাম। প্রতিবেশী অবিনাশ চন্দ্র মজুমদার (চাটুজ্যে, উল্লেখ করা হয়েছে "প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত" গল্পে) ও হিতাকাঙ্ক্ষী নকুড়বাবু (নকুড় চন্দ্র বিশ্বাস) তাঁর কোনো কোনো অভিযানে সঙ্গী হয়েছেন।
সমগ্র শঙ্কু সিরিজে প্রফেসর শঙ্কুর ৭২টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা জানা যায়। সত্যজিৎ রায় একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রফেসর শঙ্কু চরিত্রটি সৃষ্টির পিছনে প্রধান প্রেরণা ছিল তাঁর পিতা সুকুমার রায়ের গল্প হেসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়রি। অন্যমতে, এই চরিত্রে সুকুমার রায়ের 'নিধিরাম পাটকেল' চরিত্রটির ছায়াও বর্তমান।

প্রফেসর শঙ্কুর জন্মতারিখ ১৬ জুন বলে উল্লিখিত হয়েছে। তাঁর পিতা ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু ছিলেন গিরিডির খ্যাতনামা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তিনি গরিব মানুষদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতেন। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। শঙ্কুকে তিলু বলে ডাকতেন (নকুড়বাবু এই সূত্রে শঙ্কুকে তিলুবাবু বলে সম্বোধন করতেন)। শঙ্কু ছিলেন অবিবাহিত। তাঁর অপর কোনো আত্মীয়ের নাম সিরিজে উল্লিখিত হয়নি। কেবল প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত গল্পে তাঁর অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ বটুকেশ্বর শঙ্কুর উল্লেখ আছে।
"নকুড়বাবু ও এল ডোরাডো" তে ঠাকুরদা বটুকেশ্বর এর কথা বলা আছে, যিনি শ্রুতিধর ছিলেন (তাঁর অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহের নামও বটুকেশ্বর, "প্রফেসর শঙ্কু ও ভূত" গল্পে পাই)। এছাড়া আর এক খুড়তুতো ভাইয়ের উল্লেখ আছে, "প্রফেসর শঙ্কু ও ভূত" গল্পেই, যিনি বেরিলি থাকেন এবং তার উচ্চতা ছ ফুট দু ইঞ্চি, এর বেশী আর কিছু জানা যায় নি।

ছাত্র হিসেবে শঙ্কু ছিলেন অসাধারণ। জীবনে সর্বদাই প্রথম হতেন। গিরিডির স্কুল থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন শঙ্কু। এরপর ১৪ বছর বয়সে কলকাতার কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৬ বছর বয়সে ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে ডবল অনার্স সহ বিএসসি পাস করেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।

বিজ্ঞানী হিসেবেও শঙ্কুর খ্যাতি বিশ্বজোড়া। সুইডিশ আকাদেমি অফ সায়েন্স তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। ব্রাজিলের রাটানটান ইনস্টিটিউট থেকে পেয়েছেন ডক্টরেট। পাঁচটি মহাদেশের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারক হিসেবে তাঁকে স্থান দিয়েছেন টমাস আলভা এডিসনের পরেই। স্থায়ী নিবাস গিরিডি শহরে হলেও কর্মসূত্রে যেতে হয়েছে কলকাতা সহ ভারতের নানা স্থানে। গেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, স্পেন, মিশর, নরওয়ে, সুইডেন, তিব্বতে; অভিযান চালিয়েছেন সাহারা মরুভূমি, আফ্রিকার বনভূমি, সমুদ্রের তলদেশে, কয়েকটি অজানা দ্বীপে এমনকি মঙ্গলগ্রহেও।

প্রফেসর শঙ্কু তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নির্লোভ ও সৎ। কিছুটা আত্মভোলা প্রকৃতির মানুষ। তাঁর চরিত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় এক ঋষিসুলভ স্থৈর্য ও সংযম। তিনি স্বদেশপ্রেমিক; বেদ, উপনিষদ, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা গভীর। আবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিল্প ও সাহিত্যের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। তিনি জ্যোতিষে বিশ্বাস না করলেও ভূতপ্রেত ও তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাস করেন।

প্রথম উপস্থিতি: ব্যোমযাত্রীর ডায়রি
শেষ উপস্থিতি: স্বর্ণপর্ণী
স্রষ্টা: সত্যজিৎ রায়
সম্পূর্ণ নাম: প্রফেসর শঙ্কু
বাসস্থান: ধুপগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ
পোষ্য: লাকি (কুকুর)
ভাষা: ৬৯টি ভাষা জানেন
মাতৃভাষা: বাংলা

ডাকনাম: রোদ্দুর
লিঙ্গ: পুরুষ
পেশা: বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারক; প্রথম জীবনে স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক।
আত্মীয়: আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু (পিতা); বটুকেশ্বর শঙ্কু (অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ)
জাতীয়তা: ভারতীয়

প্রফেসর শঙ্কু মোট ৭২টি আবিষ্কারের কথা জানা যায়। এই সব আবিষ্কার ও তাদের নামকরণের ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের ভাষাপ্রীতি ও কৌতুকবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন, শঙ্কু আবিষ্কৃত রোবট বিধুশেখর সাধু ও চলিত বাংলায় কথা বলতে পারে; আবার তৃষ্ণানাশক বড়ির নাম ‘তৃষ্ণাশক বড়ি’।

শঙ্কুর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল:
বটিকা ইন্ডিকা, এয়ারকন্ডিশানিং পিল, লিঙ্গুয়াগ্রাফ, লুমিনিম্যাক্স, সমুনলিন, রিমেম্ব্রেন, মিরাকিউরল, রোবু ও বিধুশেখর নামক দুটি রোবট, অ্যানাইহিলিন পিস্তল, শ্যাঙ্কোপ্লেন, ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন-শঙ্কু ফরমুলা ইত্যাদি।

❏ পরবর্তীতে কোন গোয়েন্দা চরিত্রের তথ্য জানতে চান কমেন্ট করুন। ভাল লাগলে শেয়ার করুন। ❐

#কালেক্টে

প্যারাসাইকোলজি যুগল মানব ∥হাসান তারেখ চোধুরী ∥ ভাষাচিএ প্রকাশনী

প্যারাসাইকোলজি :যুগল মানব
লেখক : হাসান তারেখ চৌধুরী
ধরন : প্যারাসাইকোলজি
পৃষ্ঠা: ১৪৩
প্রকাশনী : ভাষাচিএ
মূল্য : ২০৮ টাকা (রকমারি)


সংক্ষেপ : নিঃসঙ্গ যুবক রাকিব। স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু জীবন তো সহজ পথে চলে না, তার সবসময় মনে হয় জটিলতাই পছন্দ। হঠ্যাৎ করেই পাল্টে গেল তার জীবন। স্বপ্নের জগতে বার বার দেখা পায় এক নারীর কে সে ? সহসাই তার জীবনে আগমন হলো আরো দু'জন নারীর। জীবনে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। জীবনে ঘটতে থাকে পরাবাস্তব সব ঘটনা আর এর সমাধান জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেখ তুখড় মেধাবী এক নিউরোসাইন্টিষ্ট। মস্তিষ্কের অতিপাকৃত সব ঘটনার রহস্যের সমাধান করেন এই নারী। কি আছে রাকিবের জীবনে? কিসের স্বপ্নে সে মেতে থাকে? পাঠ

প্রতিক্রিয়া : প্যারাসাইকোলজি নিয়ে আমার পড়া এইটি প্রথম বই। বাংলা সাহিত্যে আমার জানামতে প্যারাসাইকোলজি নিয়ে তেমন কোন বই নেই। বই ধরন অনেকটা মিসির আলী টাইপ এর মত। তবে মিসির আলীর থেকেও এই বই আছে পরাবাস্তব রিয়েলিটি নিয়ে আলোচনা। বইটি পড়ে ভালো না লাগর কোন কারণ নেই, কারণ বাংলা সাহিত্যে এ ধরনের লেখা নেই বললেই চলে। বই পড়ার সময় প্রতি মুহূর্ত থ্রিল এর মাঝে ছিলাম। এক কথায় অসাধারণ। লেখক হাসান তারেক চৌধুরী প্যারাসাইকোলজি নিয়ে আরো একটি বই আছে তার নাম দ্বিখন্ডিত।

Monday, March 25, 2019

The Spy -paulo coelho book review || পাওলো কোয়েলহো এর দ্যা স্পাই বই রিভিউ

দ্যা স্পাই - Paulo Coelho

বইয়ের নাম : দ্যা স্পাই
লেখক : পাওলো কোয়েলহো
অনুবাদ : ওয়াসী আহমেদ
প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন
প্রকাশনী : আদী প্রকাশন
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১১২
মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা
                     

দ্যা স্পাই সত্য ঘটনার অবলম্বনে রচিত একটি উপন্যাস। দ্যা স্পাই নাম শুনে অনেকটা ডিটেকটিভ উপন্যাস মনে হলেও এটি কোন ডিটেকটিভ উপন্যাস নয়, অনেকটা জীবনী ধরনের উপন্যাস।

মাতা হারি!এই নামটি হয়তো অনেক বারই শুনেছেন, হুম প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফ্রান্সের একটি সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পৃথিবীর রহস্যময় নারী হিসাবে তিনি পরিচিত। কারণ তার গুপ্তচর এর বিষয়টি একটি অমীমাংসিত রহস্য।

অসহায় এবং নিঃস্ব অবস্থায় মাতা হারি প্যারিসে আসে। কিন্তু অল্প সময়ের মাঝে নিজের নৃত্যশৈলীর দক্ষতা জয় করে অনেক বিওশালীদের মন। সমাজের নিচু অবস্থান থেকে উঠে আসে সমাজের উচ্চ শ্রেণীতে।নিজের রূপ ও যৌবনে মাধ্যমে মন জয় করে বহু পুরুষের। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় চারিদিকে থখন যুদ্ধের আতঙ্ক, এমন সময় মাতা হারির উচ্চবিলাশী জীবন যাপন সবার নজর কাড়ে। অনেকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাতা হারি। ১৯৭১ সালে গুপ্তচর বৃওির অভিযোগে এক হোটেল রুম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা :

বাস্তবের আলোকে, উত্থান পতনে ভরা মাতা হারির বৈচিএময় জীবনের গল্পাটাই 'দ্যা স্পাই ' এর মূল প্রতিপাদ্য। তার বিরুদ্ধে দাড় করানোর অভিযোগুলো আদৌ কতটুকু সত্যি ছিল? নাকি শুধুমাএ স্বাধীনচেতা,উচ্চভিলাষী হবার অপরাধেই পুরুষতন্ত্রের যূপকাষ্ঠে জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছিল মাতা হারিকে?
 সুতরাং মাতা হারি কে, তিনি কি আদৌও কোন গুপ্তচর নাকি সবকিছু রহস্য দিয়ে ঘেরা- জানতে হলে পড়ে ফেলুন দ্যা স্পাই 😊

বই নি:সন্দেহ ভালো বই তবে বইটিতে কিছু জাগায় এডাল্ট কথাবার্তা আছে। আশা করব প্রাপ্তবয়স্ক হলেই পড়বেন। বই অসাধারণ তবে বুঝতে অনেকটা সময় লাগলো আমার কারণ একজন রহস্য ময় নারীর জীবনী আর তো চারটি খানি কথা নয়। বিশেষ করে বিভিন্ন চরিএের নাম গুলো নিয়ে বার বার গোলমাল লাগছিল, তবুও ধৈর্য নিয়ে পড়লে সব কিছুই বুঝার কথা। লেখক পাওলো কোয়েলহো এর ভিন্নধর্মী রচনা এটি। তার রচিত সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ দ্যা আলকেমিষ্ট।



 Book Review-17 বইয়ের নামঃ লিখিত বাংলাদেশ বিষয়াবলি  রচনা ও সম্পাদনায় : Nest Publications রেটিং- ১০ এ ৮.৫ বইটা কয়েকদিন পড়েই রিভিউ করছি। একটা ...